ইসলাম ও উগ্রবাদ : হাদিসের বাণী

মূল লেখা (মূল লেখক: Omar Abdl Haleem) থেকে অনুদিত [Translated by: Lamia Mohsin] . . হাদিসের অনুবাদ অনুসারে: . ইমাম বুখারি (রাহি:), তাঁর হাদিসগ্রন্থ সহিহ্‌ আল-বুখারিতে আবু হুরায়রার (রা:)  শাসন প্রসঙ্গে নবীজির (সা:) উল্লেখ করে বলেন: . ‘এবং নিশ্চয়ই ধর্মকে তোমাদের জন্য সহজ

islam-o-ugrobad

মূল লেখা (মূল লেখক: Omar Abdl Haleem) থেকে অনুদিত
[Translated by: Lamia Mohsin]
.
.
হাদিসের অনুবাদ অনুসারে:

.
ইমাম বুখারি (রাহি:), তাঁর হাদিসগ্রন্থ সহিহ্‌ আল-বুখারিতে আবু হুরায়রার (রা:)  শাসন প্রসঙ্গে নবীজির (সা:) উল্লেখ করে বলেন:
.
‘এবং নিশ্চয়ই ধর্মকে তোমাদের জন্য সহজ করে দেয়া হয়েছে, এবং নিজেদের জীবনে এর প্রভাবকে অস্বীকার করার ক্ষমতা তোমাদের নেই । তাই তোমাদের সকল প্রচেষ্টা কেন্দ্রীভূত করো আল্লাহ্‌র রহমত আর সন্তুষ্টি লাভের লক্ষ্যে, আর অবশ্যই ফজ্‌র, ‘আসর ও ‘ঈশা আল্লাহ্‌র ইবাদতের উপযুক্ত সময় । ’
.
ব্যাখ্যাসহ হাদিসের পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুবাদ :
.
১. ‘ইন্নাল-দ্বীন ইউসি’

.
অর্থ: এবং নিশ্চয়ই ইসলাম তোমাদের ধর্মপালনের পথকে মসৃণ করে দিয়েছে, এবং ইসলামই আদর্শ ধর্ম ।
.
বিশ্লেষণ: পরম করুণাময় আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা আমাদের পূর্বসূরিদের জন্য সকল বাধা-বিপত্তি দূর করে দিয়েছেন এবং নিশ্চয়ই তিনি তাঁর সৃষ্টির ওপর এমন কোন বোঝা চাপাননি, যার ভার বহন করতে তারা অক্ষম। হতে পারে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে কোন পরীক্ষা বা সাবধান-বাণী, অথবা সীমালঙ্ঘনকারী, উশৃঙ্খল মানবজাতির উপর আরোপিত কোন নিষেধাজ্ঞা, যেমন হারাম-হালাল নির্বাচন, কিংবা একবস্ত্রে হজ্ব পালনের আদেশ ।
.
২.‘ওয়ালান ইয়ুসাদ আল-দ্বিন আহাদুন-ইল্লাহ ঘালাবাহ’
.
অর্থ: আর তোমরা কেউ ধর্মের অনুশাসনকে উপেক্ষা করতে পারবে না, বরং ধর্মই তোমাদের দিকনির্দেশনা দেবে। ’
.
বিশ্লেষণ: এখানে আমাদের জন্য নবীজি (সা:)-কে দৃষ্টান্ত হিসেবে দেওয়া হয়েছে, যিনি ধর্মকে জীবনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, এবং জীবদ্দশায় আল্লাহর উপাসনা ও ধর্মীয় প্রচারণায় সর্বদা নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন। কিন্তু ধর্মকে পুঁজি করে প্রয়োজনের অতিরিক্ত কঠোর অবস্থান নেয়াও ইসলামের পরিপন্থী। কেননা, উগ্র মানসিকতা মানুষকে ধর্ম থেকে আরও দূরে ঠেলে দিতে পারে, যার ফলে একজন গাফেল আর মু’মিনের মধ্যে কোনও পার্থক্য থাকে না। শুধুমাত্র ধর্ম নয়, এ শিক্ষা আমরা জীবনের সকল ক্ষেত্রেই প্রয়োগ করতে পারি। যেমন, একজন মু’মিন সারারাত আল্লাহর ইবাদাত-বন্দেগি, যিক্‌র করে কাটিয়ে দিল। এরপর যদি সে ফজ্‌র-এর নামাজ কাজা করে, এতে তার লাভ নয়, বরং ক্ষতিই হবে। তার মানে এই না যে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো না। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে সে প্রয়াস যেন আমাদের জন্য মাত্রাতিরিক্ত বোঝা হয়ে না দাঁড়ায়। কিংবা শুধুমাত্র নিয়মরক্ষার স্বার্থে ক্লান্তিকর কোন আচারে পরিণত না হয়।
.
৩। ‘উয়া সাদ্দিদু’
.
অর্থ: এবং নিজের লক্ষ্য অর্জন করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাও।
.
বিশ্লেষণ: তীরন্দাজ লক্ষ্যভেদ করতে সফল হয় তখনই, যখন তার তীরের ফলা বামে-ডানে , উপরে-নিচে ভ্রষ্ট না হয়ে ঠিক মাঝ-বরাবর আঘাত করে। সুতরাং  লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে সমান ভাবে সকল দিক বিচার করে, নিজের ক্ষমতা আর  দুর্বলতার মাঝে ভারসাম্য রেখে এগুতে হবে। ঠিক তেমনিভাবে, একজন ইমানদার মু’মিনকে পরকাল এবং ইহকাল-দুটোকেই সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
.
৪। ‘উয়া ক্বারিবু’
.
অর্থ:  নিজেকে গন্তব্যস্থলে নিয়ে যেতে উদ্যমী হও।
.
বিশ্লেষণ: কোন কাজে ব্যর্থ হলে নিরাশ হয়ে হাল ছেড়ে দেয়া নয়, বরং লক্ষ্যের যত কাছাকাছি সম্ভব ততটুকু যাওয়ার চেষ্টা করাই বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেয়। সেখান থেকে ধীরে ধীরে, এক পা দু পা করে, নিজের ঈমানকে আরও শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে হবে।
.
৫। ‘ওয়া আবশিরু ’
.
অর্থ: ‘এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ গ্রহণ কর। ’
.
বিশ্লেষণ: আমাদের প্রিয় নবীজির (সা:) ভাষ্যমতে, পরম করুণাময়-এর রহমত পাবে হবে সে সকল ঈমানদারেরা, যারা নিজেকে আল্লাহর চোখে একজন খাঁটি মুসলমান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা আমৃত্যু করে যায়। আমরা মানুষ বলেই আমাদের সামান্য ত্রুটি-বিচ্যুতি হওয়াটা স্বাভাবিক। বলাই বাহুল্য, আল্লাহ আমাদের ভুলগুলোকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখেন এবং আমাদের নিষ্ঠা ও ইচ্ছাশক্তির উপর ভিত্তি করেই পুরস্কৃত করেন। আর এটাই আমাদের অনুপ্রেরণার উৎস । নিঃসন্দেহে সত্যের পথে চলতে গিয়ে হোঁচট খেয়েও পুনরায় উঠে দাঁড়াবার আত্মবিশ্বাস আমাদের ঈমানকে আর মজবুত  করে তোলে।
.
৬। ‘উয়াস্তা’ইনু বিল গাদ-ওয়া ওয়া রাওহা, ওয়া সাই’ইন মিন আল-ধুলজা’
.
অর্থ: এবং তোমরা সদ্ব্যবহার কর ফজ্‌র(ভোর), আসর (বিকাল) আর ‘ঈশার( রাত্রি) ওয়াক্তের।
.
বিশ্লেষণ: এখানে  নবীজি (সাঃ) আমাদের সময়ের সঠিক ব্যবহারের উপর বিশেষ জোর দিয়েছেন ।  নিজ লক্ষ্যে নিমগ্ন একজন ব্যক্তিকে, রুপক অর্থে ভ্রমণকারীর সাথে তুলনা করা হয়েছে। একজন বেদুইন পায়ে হেঁটে গন্তব্যস্থলের উদ্দেশ্যে যাত্রার মাঝপথেই পরিশ্রান্ত হয়ে যেতে বাধ্য। কিন্তু যাত্রা-বিরতি নিয়ে, নিজের ক্লান্তি দূর করে, ধৈর্য সহকারে ভ্রমণ করে, একদিন না একদিন সে গন্তব্যের সন্ধান পাবেই। এই দীর্ঘ ভ্রমণ যেন আমাদের ইহকাল আর পরকালের মধ্যবর্তী সফরের মতই। উপরে উল্লেখিত সময়গুলোতে আমাদের শরীর ও মস্তিষ্ক দুইই সবচেয়ে সক্রিয় থাকে। তাই এই সময়গুলোর সদ্ব্যবহার করলে আমাদের ওপর কোন ধরনের মানসিক চাপ পড়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ । নয়টা-পাঁচটার সেই গৎবাঁধা রুটিনের পরিবর্তে দিনকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ভাগে ভাগ করে নেয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পরিশ্রম করে, কিছুক্ষণের বিরতি দিয়ে, বিকেল কিংবা সন্ধ্যা পর্যন্ত টানা কাজ করে, দিনের ইতি টানা উচিৎ। আবার কেউ চাইলে রাতে স্বল্প সময়ের জন্য কাজ শেষ করতে পারে। এ ক্ষেত্রে দিন আর রাতের তফাৎ নামাজ দ্বারা করার প্রস্তাব দিয়েছেন আলেমরা, যাতে ঘড়ির কাঁটা নয়, সালাত আদায়ের সময়সূচী অনুযায়ী আমরা আমাদের দৈনন্দিন কাজগুলো সাজিয়ে নিতে পারি। এতে করে জাগতিক ও পারলৌকিক জীবনের সংঘর্ষ খুব সহজেই এড়ানো সম্ভব ।

_________________________________________________________________________

Translated from: http://aljumuah.com/hadith-explained-islams-position-on-extremism-omar-abdl-haleem/

.

মূল লেখা (মূল লেখক: Omar Abdl Haleem) থেকে অনুদিত
[Translated by: Lamia Mohsin]

ibanamedia@gmail.com

Review overview
NO COMMENTS

POST A COMMENT