মিউজিক – বিতর্ক যেখানে

রচনায়: রিসার্চ কমিটি- IslamToday [অনুবাদ: রুহান আরমান] আবু মালিক আল-আশ’আরী থেকে বর্ণিত: আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, আমার উম্মাতের মধ্যে এমন একদল লোক আসবে যারা ব্যভিচার, খাঁটি রেশমী কাপড়, মদ এবং বাদ্যযন্ত্রকে নিজেদের জন্য বৈধ

music

রচনায়: রিসার্চ কমিটি- IslamToday
[অনুবাদ: রুহান আরমান]

আবু মালিক আল-আশ’আরী থেকে বর্ণিত: আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, আমার উম্মাতের মধ্যে এমন একদল লোক আসবে যারা ব্যভিচার, খাঁটি রেশমী কাপড়, মদ এবং বাদ্যযন্ত্রকে নিজেদের জন্য বৈধ করে নেবে।  [বুখারী]

উপরের হাদিসটি একটি সহীহ হাদীস। হাদিসটি সহীহ আল-বুখারী গ্রন্থে মু’আল্লাক (এক ধরণের হাদীস যাতে একজন নির্দিষ্ট বর্ণনাকারী নেই বলে বর্ণনাসূত্রে ছেদ পড়েছে) হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। ইবনে হাযার আল-আস্‌কালানী এই বর্ণনাটি নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা করেছেন এবং দেখিয়েছেন যে এর নয়টি ছেদহীন পূর্ণ বর্ণনাসূত্র বা ইসনাদ রয়েছে]

মিউজিকের ব্যাপারে ইসলামের বিধান কী—এ প্রশ্নে সকল আলেমই একমত যে যদি মিউজিকের সাথে অশ্লীলতা, মদ্যপান বা যে কোনো ধরণের অনৈতিক ও ইসলামবিরোধী কাজ জড়িত থাকে তবে তা হারাম। তবে যে মিউজিকের সাথে এ ধরণের খারাপ কাজের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই সেই মিউজিকের ব্যাপারে আলেমগণের মতের ভিন্নতা রয়েছে।

ওলামাদের বেশিরভাগের মতে মিউজিক এবং বাদ্যযন্ত্র সর্বাবস্থায়ই নিষিদ্ধ; তাতে খারাপ বিষয়ের সংশ্লিষ্টতা থাকুক বা না থাকুক। বেশ কিছু সংখ্যক হাদীস রয়েছে যেগুলোতে মিউজিকের প্রতি নেতিবাচক ভাব পোষণ করা হয়েছে। তার মধ্যে ওপরে উল্লেখিত সহীহ আল-বুখারীর হাদিসটিও রয়েছে—আবু মালিক আল-আশ’আরী থেকে বর্ণিত: ‘আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, আমার উম্মাতের মধ্যে এমন একদল লোক আসবে যারা ব্যভিচার, খাঁটি রেশমী কাপড়, মাদকদ্রব্য এবং বাদ্যযন্ত্রকে নিজেদের জন্য বৈধ করে নেবে।’

বেশিরভাগ ওলামা এই হাদীস থেকে অর্থ করেছেন যে মিউজিক হারাম। হাদিসটি পড়লে স্পষ্টতই এই অর্থটি প্রতীয়মান হয়। ‘বৈধ করে নেবে’ এই কথাটি থেকে বোঝা যায় যে  উল্লেখিত জিনিসগুলো প্রাথমিকভাবে অবৈধ ছিল। তাছাড়া, বাদ্যযন্ত্র সহযোগে মিউজিককে এখানে এমন সব বিষয়ের সাথে একত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যেগুলো সন্দেহাতীতভাবেই হারাম। এই ব্যাপারটি থেকে বোঝা যায় যে বাদ্যযন্ত্রও অন্যান্য হারাম বিষয়গুলোর মতো একই বিধানের আওতায় পড়বে।

চারটি মাযহাবেরই বহু সংখ্যক আলেম এই হাদীসের ভিত্তিতে মিউজিককে নিষিদ্ধ বলেছেন।

অন্য যে সকল হাদীসে মহিলাদের বিভিন্ন উপলক্ষে ‘দফ’ বাজানোর বর্ণনা পাওয়া যায় সে হাদীসগুলোকে এই সাধারণ নিয়মের ব্যতিক্রম হিসেবে দেখা হয়। সুন্নাহ থেকে প্রাপ্ত এই ব্যতিক্রমগুলোতে শুধুমাত্র কণ্ঠস্বর এবং ‘দফ’ (ঝুনঝুনি বিহীন এক ধরণের তাম্বুরা বা ছোট ঢোলবিশেষ)-এর ব্যবহার ছাড়া আর কোনো কিছুর উল্লেখ পাওয়া যায় না।

যে সকল আলেম মিউজিককে নিষিদ্ধ বলেছেন তারা এ ব্যতিক্রমকে মেনে নিয়েছেন। কিন্তু এই ব্যতিক্রমের পরিধি কতটুকু হবে তা নিয়ে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। কোনো কোনো আলেমের মতে এই ব্যতিক্রমটি নারী ও পুরুষ সবার জন্য যে কোনো উপলক্ষেই প্রযোজ্য। কারো মতে এটি শুধুমাত্র মহিলাদের জন্য প্রযোজ্য। কেউ শুধুমাত্র কোনো উৎসব উপলক্ষে এর অনুমতি আছে বলে মত দিয়েছেন। আবার কারো মতে এই ব্যতিক্রমটি উৎসব উপলক্ষে শুধুমাত্র মহিলাদের জন্য প্রযোজ্য।

বাদ্যযন্ত্রের ক্ষেত্রে, কিছু আলিম শুধুমাত্র ‘দফ’-এর ক্ষেত্রেই ছাড় রয়েছে বলে মনে করেন। অন্য আলেমদের মতে ‘দফ’-এর পাশাপাশি ঝুনঝুনিযুক্ত তাম্বুরা এবং অন্যান্য ঢোলেরও বৈধতা রয়েছে।

অল্প কিছুসংখ্যক ওলামা যে মিউজিকে খারাপ কোনো কিছুর সংশ্লিষ্টতা নেই সে মিউজিককে বৈধতা দিয়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন ইব্‌ন হাযাম এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে আবু হামিদ আল-গাযালী।

যে সকল আলিম নেতিবাচক প্রভাবমুক্ত মিউজিককে বৈধ মনে করেন তাদের মধ্যে বেশিরভাগই উল্লেখিত একই দলীলসমূহ ভিন্নভাবে বিশ্লেষণ করেছেন। তাদের যুক্তি হচ্ছে যে, মিউজিক নিষিদ্ধ হওয়া এর পারিপার্শ্বিক অবস্থার উপর নির্ভর করে। মূলত তারা মনে করেন, হাদিসগুলোতে মিউজিককে সাধারণ ভাবে নিষিদ্ধ করা হয়নি; বরং শুধুমাত্র সে সকল ক্ষেত্রেই নিষিদ্ধ করা হয়েছে যে সকল ক্ষেত্রে মিউজিকের সাথে অন্যান্য সন্দেহযুক্ত কার্যকলাপ যুক্ত থাকে। ফলশ্রুতিতে তাদের মত হচ্ছে, শুধুমাত্র একক একটি বিষয় হিসেবে মিউজিক সাধারণভাবে হালাল।

যারা মিউজিককে হালাল হিসেবে দাবি করে, তারা প্রায়শই বিশেষ উপলক্ষে গান গাওয়া এবং ‘দফ’ বাজানোর হাদিসটিকে মিউজিক এবং বাদ্যযন্ত্রের সাধারণ বৈধতার সপক্ষে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করেন। যে হাদীসগুলোতে মিউজিকের প্রতি বিরূপ ভাব পোষণ করা হয়েছে সে হাদিসগুলোকে তারা এ সাধারণ অনুমতির ব্যতিক্রম অবস্থা মনে করেন; অর্থাৎ তাদের মতে এ হাদীসগুলোতে মিউজিককে শুধুমাত্র সে সকল অবস্থায়ই নিষিদ্ধ করা হয়েছে যখন মিউজিককে গোনাহর পরিবেশে ব্যবহার করা হয়।

ব্যক্তিগতভাবে, আমাদের সবার উচিত মিউজিক সম্পর্কিত এ দুটি ভিন্ন মতকে নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে তুলনা করে দেখা এবং তারপরে সিদ্ধান্তে আসা যে কোন মতটি অধিকতর নিরাপদ এবং সঠিক। এটাও দেখা প্রয়োজন যে কোন চিন্তাটি আদতে নিজের খায়েশকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে।

সবশেষে, আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

 

readingroom@ibanaway.com

Review overview
6 COMMENTS
  • sezan92July 2, 2014

    শুকরান। আচ্ছা বিটবক্সিং এর ব্যাপারে বিস্তারিত বলতে পারবেন। পুরাই মুখ দিয়ে আওয়াজ করে কিন্তু মিউজিকাল ইন্সট্রুমেন্ট থেকে পার্থক্য করা যায় না। আমি জানতে চাচ্ছিলাম, পক্ষে বিপক্ষে উলামাদের নাম।

  • Syed irfan zahirJuly 3, 2014

    What about the guitar? i played guitar in a band, but we never drink or take any drugs. We are doing music cause it relief us from various stress, it is an entertainment to us. Is it halal ? waiting for the reply.

  • TauhidJuly 3, 2014

    valo post. Zazakallah.

  • Sirajis SalekinNovember 27, 2014

    beatboxing niye keu jante chaisilo.

    http://islamqa.info/en/193426

POST A COMMENT